আজ কিছু একটা লিখব ভাবছিলাম। কিন্তু কি লিখব সেটা ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমার লিনাক্সটা তে আবার বাংলা লেখাও যায় না। তাই আজ ঠিক করলাম যে ভাবেই হোক আজ বাংলা তে লেখার ব্যবস্থাটা করতেই হবে। হলো বটে, তবে জমল না। এত দিন অভ্রতে লিখে আজ প্রভাতে লিখতে বেশ কষ্টই হচ্ছে বইকি। তবে এটাও মানতে হবে যে মানুষ আসলে অভ্যেসের দাস। তাই আজ আগডুম বাগডুম লিখতেই বসেছি। দেখি কতটা অভ্যেস হয় আজ একদিনে।

‘একদিন’ থেকে মনে পড়ল অনেক কাল আগে পড়া একটা বইতে পড়া একটি লাইন। লেখক বলছেন, একদিনের মূল্য সেই জানে যার মৃত্যু আগামীকাল। ফাঁসীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামী একটা প্রোব্যাবল ক্যানডিডেট হতে পারে। তবে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের কাছেও এক একটি দিনের গুরুত্ব অনেক। আমরা এক একটা দিনকে এত সহজে, এত ক্যেজুয়ালি কাটিয়ে দিই, কখনও ভেবে দেখিনা দিনগুলো কত দামী।

আমাদের অফিসে একটি ছেলে ক্যাজুয়াল কাজ করত। কথা একটু বেশিই বলত বটে, তবে মনটা খুব ভালো ছিলো ছেলেটার। বেশ কিছুদিন কাজ করার পর ছেলেটির কাজ চলে যায়। সাধারনত এসব ঘটলে মানুষ খুব ভেঙ্গে পড়ে। কিন্তু এই ছেলেটার মধ্যে কিছুই দেখিনি সেদিন। খুব অবাক লেগেছিল। হয়ত সেদিন বাড়ি গিয়ে সবার অলক্ষ্যে কেদেঁছিল, কিন্তু সেটা কাউকে জানতে দেয়নি। একটা ২৫-৩০ বছরের ছেলের কাছে চাকরি যাওয়াটা যে কি পরিমান চাপের সেটা বাড়ির বড় ছেলেরা জানেন। ছেলেটা এখন একটা ভালো কোম্পানিতে কাজ করছে। বিয়েও করেছে কিছুদিন হল।

সেদিন গড়িয়াহাট থেকে অটোতে ফেরার সময় পেছনের সিটে দুটো মেয়ের কথোপকথন শুনে অবাক হয়ে গেলাম। সদ্য কলেজ থেকে পাশ করেছে বলেই মনে হল। প্রথমজন দ্বিতীয়জনকে বলছে, জানিস, আমার বিয়ে ২০১৯ এ হচ্ছে। দ্বিতীয়জন অবাক চোখে জিজ্ঞেস করল, তুই কি করে জানলি? প্রথমজন ব্যাগ থেকে একটা ভিজিটিং কা‌‍‍‍‍‍‍‍‍‍‌‍র্ড বার করে দিয়ে বলল, এটা নে, তুইও জেনে যাবি। — ‘এ তো জ্যোতিষীর ঠিকানা।’ — ‘তা নয় তো কি? উনি যা যা বলেছেন সব মিলে গেছে, জানিস। দাদাকে বলেছিল ২৮ এর আগে বিয়ে হবে না। হয়নি, জানিস। দাদুকে বলেছিল ষাট বছর বয়সে মারা যাবেন। ঠিক ষাট বছর বয়সেই দাদু মরে গেল।’ আমি সামনের সিটে বসে সব শুনছি। মেয়ে দুটির এর পরের কথা শুনে অটো থেকে পড়ে যাইনি সেটাই বড় কথা। প্রথমা এর পর বলল, ‘বিয়েটা যে কেন ২০১৯ এ হবে আমি বুঝতে পারছি না। আমি জ্যোতিষীকে বললাম এর থেকে আগে হয়না? উনি বললেন, না, এটাই লেটেস্ট। আরে, এতদিন ওয়েট করা যায় নাকি?’ এই কথা শুনে আমি মোটামুটি ধরেই নিয়েছিলাম, ছেলে তার মানে রেডি। কিন্তু দ্বিতীয়া এর পর জিজ্ঞেস করল, ‘পাত্র কই?’ — ‘সে নিয়ে ভাবিস না। বাবা বলেছে পাত্র পেতে ম্যাক্সিমাম তিন মাস। ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটগুলো কি করতে আছে?’ এর পর দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ। অটোটাও বাঘাযতীন পেড়িয়ে গেছে। গড়িয়াতে নামার আগে প্রথমা বলল, ‘বিয়েতে মাটন করব, না চিকেন?’ তাতে দ্বিতীয়ার উত্তর, ‘জ্যোতিষীকে জিজ্ঞেস কর কোনটা করলে তোর বিয়েটা টিকবে!’

A very complicated simple person. Jack of all trades, master of a few. Loves to read books and well-written code. Fluently speaks several languages including JavaScript, PHP, Java, English, Bengali etc. Listens to loads of music everyday. PhD in mood-swing. Chess Grandmaster of disaster.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *