বেশ কিছুদিন হল ফেসবুকে একটি গ্রুপে জয়েন করেছি। গ্রুপটা একটি লিটল ম্যাগাজিন দ্বারা চালিত, নাম “গুরুচন্ডা৯” (আজ্ঞে হ্যাঁ, ৯)। ম্যাগাজিন লিটল হলেও, গ্রুপের সদস্যসংখ্যা বেশ অনেক, এই মুহূর্তে ২২০০০+।

যে বিষয়টি আমার সবথেকে ভালো লেগেছিল, সেটা এই গ্রুপের পলিসি বা গাইডলাইন্স। ১. কোনো ব্যাক্তি আক্রমন নয়, ২. মতামত রাখতে পারবে যে কেউ, যে কোনো বিষয়ে, বাক-স্বাধীনতা খর্ব করা হবে না। খুবই সহজ, সরল নিয়ম।

জয়েন করার পর বেশ ভালোই লাগতে লাগল। বেশ অনেক বিষয়ে আলোচনা হয় এখানে। এটা জেনে আরও ভালো লাগল যে সদস্যদের মধ্যে বেশ অনেকেই বাংলাদেশ এর বাসিন্দা। সেভাবে ওপার বাংলার ব্যাপারে কিছুই জানতাম না।

বেশ কিছুদিনের মধ্যেই বুঝলাম, কত কি জানা বাকি আছে। প্রত্যেকটি মানুষ তাঁদের নিজস্ব মতামতে এন্টাইটেল্ড। এবং এটা খুবই স্বাভাবিক আমার মত্ অন্য কোনো ব্যাক্তির সাথে নাই মিলতে পারে। কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকাটা জরুরী। নইলে চিন্তার বিকাশ ঘটে না।

কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের এত ঘৃণা থাকতে পারে সেটা এখানে না আসলে অজানাই থেকে যেত। সেই ঘৃণাটা দেখলাম মতের মিল না হওয়া থেকেই হচ্ছে। আমি সিপিএম, তুমি তৃণমুল। তার মানে তুমি খারাপ। আমি হিন্দু, তুমি মুসলমান। অর্থাৎ তুমি বাজে।

এই অসহিষনুতার আবহাওয়াটা খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে দিনদিন। এই গ্রুপের গল্প দিয়ে শুরু করলাম এই জন্যই কারন এখানে সদস্যসংখ্যা অনেকটা বেশি হওয়ায় এটাকে একটা স্যাম্পেল বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। মানে, এই গ্রুপের চিন্তাটা সমষ্টিগত


চিন্তার প্রতিফলন বলে ধরা যেতেই পারে।

এই যে ঘৃণার কথাটা বলছি সেটা একটা কালেক্টিভ এফর্ট টুওয়ার্ডস কালেক্টিভ মাস। হিন্দুর প্রতি মুসলিমের, বা টিএমসির প্রতি সিপিএমের। অর্থাৎ আমি কোন ধর্মের বা আমার রাজনৈতিক অ্যাফিলিএশন ঠিক করে দিচ্ছে আমার চরিত্র। কেউ জানতে চাইছে না, আমি মানুষটা কে। এটাকে একটু ঘুরিয়ে বললে দাড়ায়, আমার নেতা বা ধর্মগুরু ঠিক করে দিচ্ছে আমার কি চিন্তাভাবনা হবে। অর্থাৎ আমার স্বাধীন চিন্তার জায়গাটাতে আঘাত করে চলেছে নেতা বা ধর্মগুরু। তাহলে প্রশ্নটা থেকেই যায়, মুক্তচিন্তা কি আমরা সত্যিই করি? নাকি, আমরা কি ভাবব, কি খাবো, বা কি পড়ব সেটাও ঠিক করবে নেতা বা ধর্মগুরু?

আর একটা বড় সমস্যা হল সাধারনীকরন। কোনো একজন ব্যাক্তি, যে ঘটনাচক্রে হিন্দু, খুবই নোংরা এবং বাজে কাজ করেছে কিছু, সে খারাপ। এর থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা গেল, সব হিন্দুই খারাপ! যুক্তির এরম ওভার-সিম্পলিফিকেশনের জুড়ি মেলা ভার! তাহলে, বাজারে গিয়ে সবজি বেছে কেনার কি দরকার, একটা দেখলেই তো হল। (ছিদ্রান্বেষীদের জন্য বলে রাখি, মানুষের সাথে সব্জির কোনো মিল নেই, এটা একটা রুপক মাত্র।)

মুক্তচিন্তাটা যেমন জরুরী, ঠিক তেমনি দরকার অসহিনষনুতার প্রতিবাদ করাটা। সেটা পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েই হোক, বা অন্য কোনো ভাবে।

আসলে আমরা নিজেরা ভাবতে ভুলে যাচ্ছি, প্রশ্ন করতে ভুলে যাচ্ছি। স্মার্টফোন আর ফেসবুকের যুগে দাঁড়িয়ে সময়ের বড় অভাব যে!

A very complicated simple person. Jack of all trades, master of a few. Loves to read books and well-written code. Fluently speaks several languages including JavaScript, PHP, Java, English, Bengali etc. Listens to loads of music everyday. PhD in mood-swing. Chess Grandmaster of disaster.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *